দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল। কলকাতা ও রাজ্যের ৭ জেলার ১৪২টি আসনে এই ভোট হবে। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে বিজেপি, তৃণমূল ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন তৃণমূলকে হটিয়ে ‘বিজেপির জামানা’ শুরুর ডাক দিচ্ছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতিদাতা’ বলে আক্রমণ করছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মমতাকে নিশানা করে এই প্রচারের উত্তাপ আরও বাড়িয়েছেন।
শনিবার বর্ধমানের জামালপুরে এক সমাবেশে অমিত শাহ বলেন, ‘দিদির জামানা শেষ। এবার শুরু হবে বিজেপির জামানা।’ তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনামলে রাজ্যে সাত হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই শিল্পে গতি ফেরাতে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা প্রয়োজন।
একই দিনে নদীয়ার নবদ্বীপে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের ২৫ বছরের দুঃশাসনের হিসাব নেওয়া হবে এবং রাজ্যে ‘গুন্ডারাজ’ শেষ করা হবে। হুগলির আরামবাগে বিজেপির প্রচার সভায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা কটাক্ষ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যে আর সরকার গঠন করতে পারবেন না, তাঁকে সরকার গড়তে হলে বাংলাদেশে যেতে হবে।
দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রতিপক্ষ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপির বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী পৃথকভাবে মাঠে নামেন। বিকেলে ভবানীপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের কাছে ভোট চান তাঁরা।
এ সময় বিজেপির বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির উত্তরপাড়ায় এক প্রচার সভায় তিনি বলেন, বিজেপির স্বপ্ন এবার বাংলায় পূরণ হচ্ছে না। তৃণমূলই ক্ষমতায় থাকছে। বিজেপিকে ‘বসন্তের কোকিল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপি বলে এক, করে আরেক। ভোটের সময় এসে আশার কথা শোনায়, এরপর পালিয়ে যায়।’
এদিকে এই নির্বাচনে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা জানান দিতে মাঠে নেমেছে কংগ্রেসও। কলকাতার মেটিয়াবুরুজে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক সভায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, বিজেপি হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্র প্রদেশে ভোট কারচুপি করে জিতেছিল, বাংলাতেও তারা একই চেষ্টা করছে।
তদন্ত সংস্থার হয়রানির কথা উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি সব সময় বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছি। আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা আমাকে টানা ৫৫ ঘণ্টা জেরা করেছে।’
মোদি ও মমতাকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, মমতা ৫ লাখ এবং মোদি ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউই কথা রাখেননি। সারদা ও রোজভ্যালির মতো আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা লুট হলেও মমতার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। রাহুলের মতে, মোদির মতোই মমতাও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন।
কে